জগন্নাথদেবের মূর্তি অসম্পূর্ণ কেন ?

Spread the love

why-is-the-idol-of-jagannath-dev-incomplete





ভারতের হিন্দুদের অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎসব হলো রথযাত্রা উৎসব । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দীর্ঘদিনের পর বৃন্দাবনে ফিরে আসার পর বৃন্দাবনবাসী ভগবান জগন্নাথ , বলরাম ও সুভদ্রা কে রথে বসিয়ে রথ টেনে এই উৎসব প্রথম শুরু করে। এই রথযাত্রা উৎসব বাংলা সনের আষাঢ় মাসে দ্বিতীয়া তিথিতে উদযাপন করা হয়। ভারতের সবচেয়ে বড় মাপের রথযাত্রার উৎসব পালন করা হয় উড়িষ্যার পুরী শহরের। এছাড়াও ঝাড়খন্ড, বিহার, আসাম,  পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল,হবিচক, শ্রীরামপুর , গুপ্তিপাড়া ;  কলকাতা, বাংলাদেশ তাছাড়া বিভিন্ন দেশেও এখন  হিন্দুরা এই রথযাত্রা উৎসব পালন করে।

ভগবান জগন্নাথ দেবকে “জগতের নাথ বা জগতের প্রভু”  বলা হয়। জগন্নাথ হলেন হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর  অবতারের একটি রূপ। এই জগন্নাথ দেবের মূর্তি সাধারণত নিম কাঠের তৈরি হয়।  চোখ দুটি বড় বড় ও গোলাকার এবং হাত দুটি অসম্পূর্ণ আর কোন পা দেখা যায় না।

why-is-the-idol-of-jagannath-dev-incomplete





এই জগন্নাথ দেব কে কেন্দ্র করে একটি জনপ্রিয় পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত আছে -কৃষ্ণভক্ত রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের রাজ্যে অর্থাৎ পুরীর সমুদ্রতটে ভেসে আসে একটি বড় কাঠের খন্ড।  এই কাঠের খন্ড দেখে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন মূর্তি নির্মাণ করার নির্দেশ দেন। তখন মূর্তি নির্মাণের জন্য একটি উপযুক্ত কাষ্ঠশিল্পীর সন্ধান শুরু করেন। সেই সময় এক রহস্যময় বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কাষ্ঠশিল্পী রাজার সামনে উপস্থিত হন এবং মূর্তি নির্মাণের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। তিনি বলেন এই মূর্তি নির্মাণের জন্য কয়েকদিন সময় দিতে হবে এবং একটি ঘরের মধ্যে দরজা-জানলা বন্ধ করে তিনি কাজ করবেন তাকে কেউ যেন কোনো বাধা না দেয়।

কিন্তু এই মূর্তি নির্মাণে রাজা-রানী খুবই আগ্রহী ছিলেন তাই তারা প্রতিদিন দরজার সামনে গিয়ে শুনতে পেতেন কাঠখোদাই এর শব্দ ভেসে আসছে। এইভাবে চলার পর ৬-৭ দিন বাদে যখন রাজা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন এমন সময় আওয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যায় , তখন রাজা কৌতুহলী হয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। দেখেন মূর্তি নির্মাণের অর্ধেক কাজ হয়েছে এবং কাঠের শিল্পী অদৃশ্য হয়ে গেছে। এই রহস্যময় কার্ড শিল্পী ছিলেন স্বয়ং দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা । মূর্তির হাত-পা নির্মিত হয়নি বলে রাজা চিন্তায় পড়ে যায়। তার নিজের এই কাজের বাধা দানের জন্য অনুতাপ করতে থাকেন। সেই দিন থেকে এই অসম্পূর্ণ মূর্তি জগন্নাথদেব রূপে আজও পূজিত হয়ে আসছে ।




Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *