ফাইজারের কোভিড-১৯ টিকাতে সম্মতি ব্রিটেনের, সামনের সপ্তাহে মিলবে টিকা

Spread the love

ফাইজারের কোভিড-১৯ টিকাতে সম্মতি ব্রিটেনের, সামনের সপ্তাহে মিলবে টিকা

দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর, অবশেষে মিলল করোনার বিরুদ্ধে সাফল্য।বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনার টিকা আবিষ্কার করল ব্রিটেনের ফাইজার। ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা “মেডিসিন এন্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সি“(MHRA), এই টিকার অনুমোদন দিয়েছে। এই টিকাটি করোণা ভাইরাস প্রতিরোধে ৯৪ শতাংশেরও বেশি সক্ষম। টিকাটির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে আশার আলো দেখছে বিশ্ববাসী।

ফাইজারের কোভিড-১৯ টিকাতে সম্মতি ব্রিটেনের, সামনের সপ্তাহে মিলবে টিকা

আগামী সপ্তাহে এই ভ্যাকসিন ব্রিটেন এর জনমানুষকে প্রদান করা হবে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষজন এদের ওপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। ভ্যাকসিন টি তৈরি করতে সময় লাগলো মাত্র দশ মাস। যদি একটি ভ্যাকসিনের সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করতে সময় লাগে প্রায় ছয় বছর। কিন্তু আপদকালীন পরিপেক্ষিতে এই ভ্যাকসিন এর ট্রায়াল সম্পন্ন করা হয়েছে। ফাইজার এর সিইও অ্যালবার্ট বৌরালা বলেন, আমরা জানতাম বিজ্ঞানের জয় হবেই। আমরা দিন-রাত একজোট হয়ে কাজ করেছিলাম এবং সম্মতি পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তিনি MHRA এর প্রশংসা ও করেছেন। ব্রিটেন এর করোনা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক তাই তখনকার সরকার দেরি না করেই সামনের সপ্তাহে এই ভ্যাকসিন এর প্রয়োগ করবেন সাধারণ মানুষজনকে। এর মধ্যেই চার কোটি টিকার আবেদন করেছেন যুক্তরাজ্য সরকার,যাতে করে দু’কোটি মানুষজনকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা যাবে। ভারতে এক কোটি ভ্যাকসিন আসবে খুব তাড়াতাড়ি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু ভ্যাকসিন এর উপর ভরসা করে থাকলে হবে না সমস্ত মানুষকে অপেক্ষা করতে হবে সামাজিক দূরত্ব এবং মাক্স এর ব্যবহার নিয়ম মেনে চালিয়ে যেতে হবে। এই টিকা সংরক্ষণ করা ও যথেষ্ট নিয়ম মেনে করতে হবে। -৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াস যুক্ত তাপমাত্রা তে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এর জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামোর খুবই প্রয়োজন।

ফাইজারের কোভিড-১৯ টিকাতে সম্মতি ব্রিটেনের, সামনের সপ্তাহে মিলবে টিকা

ব্রিটেন থেকে যে কোন ভ্যাকসিন এর ছাড়পত্র পাওয়ার যেমন খুব কঠিন তেমনই নির্ভরযোগ্য হয়। সে দিক থেকে এই ভ্যাকসিন এর উপর অনেকেই আস্থা রাখছেন।এমনকি ভ্যাকসিনের প্রয়োগে যদি কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় তখন ভ্যাকসিন প্রয়োগে স্থগিতাদেশও দিতে পারেন এই সংস্থা।এই ভ্যাকসিন এর পরীক্ষা গুলোতে দেখা গেছে এক সপ্তাহের মধ্যে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম এবং T সেল নামে পরিচিত সেল টি তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে এটি কার দ্বিতীয় প্রয়োগ করা হয়। দেখা গেছে ভ্যাকসিনটি ভাইরাস প্রতিরোধে ৯৪ শতাংশ সক্ষম। এখন পর্যন্ত ৬ টি দেশে প্রায় ৪৫ হাজার জনের উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। দেখা যায়নি কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া। বিশ্বে বর্তমানে করোনার অনেক ধরনের ভ্যাকসিন তৃতীয় পর্যায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে, কিন্তু ফাইজারের এই ভ্যাকসিন টি দ্রুত সাফল্য নিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *